সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

ছন্নছাড়া




পড়ন্ত বিকেলে ফসল – তোলা মাঠের ওপর কিছু সরু কালো পা। তার অনেকটা ওপরে সূর্যের লালচে টিপ। এরা দুজন মিলে একটা চরিত্র তৈরি করে। যে চরিত্রটা রোজ সকালে আমায় ভাত বেড়ে দেয়।  

কুয়াশার মাঝে ফ্যাকাসে হয়ে থাকা সবুজের ভিড়ে হঠাৎ একটা গনগনে লাল চিমনি... তোমার পেলব শরীরে একফোঁটা আম্লিক ক্ষত!

মাঝমাঠে বসে থাকা অকর্মণ্য মন আর ঠাণ্ডাঘরের কিউবিকল–এ বাড়তে থাকা ভুঁড়ি... দুর্যোগে সব এক হয়ে যায়।

মাটিকে মা বলে ডাকি...
যাতে তার বুক উপড়ে বহুতলের দূরত্ব পেরোতে লজ্জারা ছায়া না মাড়ায়। ঘূর্ণিঝড়ে ছিটকে গেলে আবার সে শূন্য বুক খিমচে ধরতে একবিন্দু দ্বিধা না জন্মায়। 

শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১২

শরীর


তোকে এত ভালবাসব জানলে, 

ধানক্ষেতে দৌড়তাম না।

তোকে আঁকড়ে থাকব জানলে,

গেছো-পনাগুলো করতাম না।

তোকেই ‘আমি’ ভাবব জানলে,

রোদ্দুরে আম খুঁজতাম না।

তোকে এত ভালবাসব জানলে,

এত-কটা দিন বাঁচতাম না! 

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১২

তোমার নিঃশ্বাস !


এক স্বপ্নিল অসুস্থ উষ্ণতার মাঝে
তুমি এলে
সাথে নিয়ে তোমার নিঃশ্বাস...
আরও উষ্ণতা ।
জীবাণুরা যাবার আগেই
তোমার বিদায়...
তারপর জীবের মতই জীবাণুও... দেহ বদল চায়
জানালার ফাঁক দিয়ে চলে আসে ঠাণ্ডা-মতন হাওয়া
শীতের আগমনী – আছিলায়।
আমার শীত আমায় আঁকড়ে ধরে আছে...
আর শীতের ফাঁকে তোমার নিঃশ্বাস !

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১২

জীবন


চরিত্ররা ঘোরাফেরা করে জীবনের গা বেয়ে ।
কেউ মন ছুঁয়ে যায় ... আর কেউ কেউ শরীর !
জীবন ব্যস্ত থাকে চরিত্রদের নিয়ে জট পাকাতে ।
যে মন চায়, তাকে মাপে শরীর দিয়ে ...
আর যে চায় শরীরের আঁচ, তার পেছনে লেলিয়ে দেয় মন !!!

তাই এই জটিল-মনা জীবনের ওপর ভারী রাগ করে সেদিন আমি নিজের পছন্দের –OH গ্রুপের বোতল খুলে ঢকঢক গিলতে থাকি... আর স্নায়ুগ্রন্থির স্ক্রু – গুলো একটু ঢিলে হতেই ‘প্রাণ’ – ভরে জীবনকে দিতে থাকি গাল ।

পাঁচতলার ব্যালকনি বেয়ে গড়িয়ে আসা সকালের রোদে যখন ঘুম ভাঙল...
ধোঁয়াভরা শহর আর চরিত্রের ভিড়ে গিজগিজে হয়ে ওঠা জীবনটাকে তখন ভারী সুন্দর লাগল ...!!!!!!!!!1111123...! 
 


মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চুপ


আমি-খানা নিয়ে কথা হবে বলে/ হাজার-জনতা-লক্ষের ভিড়ে/ রোজ বেড়ে চলে কথা-বলাবলি/ কান-টানাটানি দর-কষাকষি/ আর গালাগালি।

তোমার অধীন হব নাকো আমি/ যতই বাড়ুক রোজ চুলোচুলি/ তোমার পকেট ভারী হলে পরে/ সে-কথা আলাদা পেতে দেওয়া যায়/ সব চুলগুলি

পকেট ফক্কা পরাণ অক্কা/ সব আমি-দের জনতার ভিড়ে/ দাউদাউ জ্বলে লোভের কিংবা/ খিদের আগুন আগুন সে হোক/ যেমন-তেমন জ্বালাবে সে সব/ হৃৎস্পন্দন

ধুকুপুকু বুকে হানাই-পানাই/ অমুকতা নাই তমুকতা নাই/ কত কতাকেতি শেষ হয়ে যায়/ ধুক্-পুক্-ধুক্ তবু পড়ে রয়/ নাই-নাই ভরা থাকার যুদ্ধে/ টুপটাপ করে কমে চলে লয়  

হঠাৎ কখনো যখন-তখন/ ধুকপুকুনির ছন্দপতন
শব্দমত্ত ছন্দবদ্ধ/ দুনিয়া তখন আমায় বলবে/ ... চুপ !!!



জন্ম


জন্মের কোন অর্থ খুঁজে পাওয়া হল না ...!
অথচ কেমন নিরন্তর গতিতে পা-এক পা আর-এক
এগিয়ে চলা জন্মকে পিছু ফেলে !
আমি আছি ... কারণ জন্ম হয়েছিল
তবু জন্মের কোন অর্থ বোঝা গেল না !
তাই থাকার কোন গল্প লেখা হল না...!
তবু আছি ...
কারণ জন্ম হয়েছিল! 

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

হাপিশ !!!


স্মৃতির জন্মের পরে না আগে তা ঠিক জানা নেই। আজন্ম পেরিয়ে আসা অগণিত অর্থহীন দিনের কোন একটাকে পছন্দমত বেছে নিয়ে কে যেন কানের কাছে একঘেয়ে না-চেনা সুরে বলেছিল... “জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা!

শব্দের গাম্ভীর্যে নাকি অচেনা সুরের কম্পাঙ্কে তাও অ-জানা ... স্নায়ুকোশের গা বেয়ে বেয়ে বয়ে চলেছিল ... “জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা”...

কাজেই কড়া নির্দেশ... পথ চলতে যা কিছু জোটে কুড়িয়ে চলতে হবে...
ফুল... পাতা... গাছ...
সুর... শব্দ... ছন্দ...
ভাল হোক বা মন্দ...
কুড়িয়ে চলতে হবে...

চলার পথেই পার হয়ে চলে গুনতি-হারানো দিন...
এই বুঝি শেষ সেই ভয়ে ভয়ে বুক করে চিন চিন...
সময়ের সাথে যুদ্ধের তালে সময় পেরিয়ে যায়...
ব্যস্ত-এ-মন ভীষণ গতিতে জীবন-ধন কুড়ায়...

বেশ কাটে দিন। হঠাৎ সেদিন স্বপ্নে পড়ল হানা!
থুরথুরে-বুড়ো মাঝরাতে নাচ... অ-চেনা-অ-জানা!
খিনখিনে তার ঘ্যানঘ্যানে সুরে কান হল ঝালাপালা।                                         
 “কাঁদে আর বলে জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা”
দুত্তোরি ছাই! এ কথা আমার কঅব্বে থেকে জানা!
কুড়িয়েছি সব... ফেলিনিকো এক দানা।

এই বলে আমি যেই পাশ ফিরি কান-কাছে ফিস ফিস
কুড়ুনি রে তোর জীবনটাই হাপিশ... !

রবিবার, ১৫ জুলাই, ২০১২

বৃষ্টি - প্রেম...

 বৃষ্টির জলে ভেজা তোমার সে চিঠিটাকে
এবারের বর্ষায় ভিজিয়ে ফেলেছি এক্কেবারে।
   লাল-নীল-কালো কালির সাথেই
      ভেজা কাগজের গা বেয়ে বেয়ে ঝরে পড়ছে
             
          ফোঁটা ফোঁটা প্রেম।

বৃষ্টি দেখলে ছাতা ফেলে বৃষ্টির সাথে গল্প করার দিন শেষ ।
   ঠান্ডা জলের ফোঁটারা আজ উত্তাপ-হীন...

এখন বৃষ্টি মানে... কাদা এবং যাতায়াতে অসুবিধে...

   তাই...
       লাল-নীল-কালো কালির সাথেই
ভেজা কাগজের গা বেয়ে বেয়ে ঝরে পড়ছে

              ফোঁটা ফোঁটা প্রেম

                    
                                     ঝরেই চলেছে !!!


সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১২

অতীতের বর্তমান



ইতিহাস...
ছোট-বেলায় পড়েছিলাম,
                   সে নাকি বুঝতে শেখায় বর্তমান...  
                   আর পথ এঁকে দেয় ভবিষ্যতের পানে।
এমনও শুনেছি যে...
                   সে দিতে পারে শিকড়ের খোঁজ...
                       দিতে পারে শুরুর সন্ধান!
বড়রা বলত...
   জগতটাকে বুঝতে হলে... সমাজটাকে জানতে হলে...
   হৃদয় দিয়ে পড়তে হয়, দেখতে হয়, আর বুঝতে হয়
                ‘ইতিহাস’

এ আমার ইতিহাস-পাঠের ইতিহাসের গোড়ার কথা।
     তারপর  ???
আমি ইতিহাস পড়ি
প্রথমে চোখ দিয়ে
   তারপর মন দিয়ে
     তারও পরে প্রাণ দিয়ে ...
উৎসাহী আমি দৌড়তে থাকি আদিম গুহায়... মিশরের পিরামিডের চুড়ায়... হরপ্পার বুকে দাপিয়ে বেড়াই অহংকারি আমি! মুঘল রাজ-দরবারে জাঁকজমক পার করে ঘুরতে বেরোই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আনাচ-কানাচ...। বিশ্বযুদ্ধে রিফিউজি হয়ে চাঁদে পাড়ি দিই!!! রবিঠাকুরের সাথে মেতে উঠি নারীমুক্তির তর্কে... সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ক্ষতকে আহত-নিহতের সংখ্যায় সূক্ষ্ম-মাপে মাপি।
   তারপর  ???

    হঠাৎ একদিন দাঙ্গা বাধে আমার শহরে
লড়াই বাধে ‘আমার’ সাথে ‘আমার’।
সমস্ত আমি-র ইতিহাস দখল চায় বর্তমানের...

ইতিহাস... তুমি অতীত কবে হবে... ?!

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১২

মাটি...



এক খণ্ড মাটি তোলা – তোর অপুষ্টির গা থেকে ।
যাতে ধান হয়... ডাল হয়... কিংবা ভয়ানক জঙ্গল !
              বাজরাও হয় কোথাও কোথাও!
এক খণ্ড মাটি তোলা তোর অপুষ্টির গা থেকে...
মাটির পাত্রে আর রাখা নয় তাকে... ময়লা মাটি !!
আভিজাত্যে সাজানো সভ্যতার পাত্রে যত্নে তুলে রাখা...
                 একখণ্ড মাটি।
সেই যে তুলে নিলাম তোর অপুষ্টির গা থেকে...
                                    রোজ পুষ্টি জোগাই তাতে।
আর তাতে নেই... মেঠো ধান-বাজরার ভিড়।
সভ্য মাটিতে রোজ বানাই সভ্যতার বনসাই...
অসভ্য মাটি কেঁপে ওঠে... ‘ইন্দোনেশিয়া’ !!!

ধাঁধা


রাস্তাটা আরও এঁকেবেঁকে
                                      এর-ওর-তার গায়ে জট-জটিল হাল!

এক পা তুলে কখন থেকে দাঁড়িয়ে ...
                                      তোলা পা-টা ফেলি কোথায়?

চোখ খুলে কিংবা বুজে... হাজার স্বপ্ন দেখতে পারি...
সামনে বসলে, তোমায়ও দেখানো যাবে আরও কিছু স্বপ্ন।

এবার স্বপ্নকে টেনে মাটিতে নামাতে গিয়ে...
পেতে টান পড়ে না বটে...  টান পড়ে স্বপ্নের কারখানায়।

চাহিদা-যোগান... আমদানি-রপ্তানি
                                  সবের হিসেব যায় গুলিয়ে;

স্বপ্নগুলোও সক্কলে হঠাৎ এক পা তুলে দাঁড়িয়ে !!
তোলা পা- টা... ?



বুধবার, ২ মে, ২০১২

তফাৎ


তফাৎ নেই...
             একথা বলা হয়ে গেছে, বেশ গুছিয়ে।
তাই... তফাতটা রয়ে গেছে।
উনুন-ঠাসা আগুন...
নেভাতে পারি না, তাই বালি চাপা দেওয়া...
বালির স্তূপ।
বালির স্তূপে... সক্কলেই বালি...
তাই সমান সকলে।
শুধু...  
তফাৎ-টিকে বুকে নিয়ে
    ধুঁকে ধুঁকে জ্বলতে থাকে
বালি-চাপা... উনুন-ঠাসা আগুন।

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১২

স্বপ্নপথ...



স্বপ্নগুলো ঠিক কোথা থেকে চলা শুরু করে... ?

হয়ত হাজার মানুষের ভিড়ে কোন এক অজানা

গভীর অন্ধকারের ভিতর থেকে...

কিংবা হয়ত

অগণিত অজানা চোখের নোনা জল আর বাঁকা চাহনি

আঘাত করে আমার চেতনাকে বারবার...

তার প্রতিবারে – সে মুহুর্তে জন্ম হয়...

কোনও একটি স্বপ্নের...

যদি চেতনার কোল থেকে জন্ম হয় তার... তবে



অনুভবের আদর খেতে খেতে খুশী মনে

দিব্যি চলতেই পারে সীমাহীনতার দিকে...

এতটা চলতে চলতে... আটকে পড়ে যদি ?

যদি চোখে পড়ে কোন আবদ্ধ স্বপ্ন?

সমান হয়ে সঙ্গে নেবার শক্তি হবে কি?

ও স্বপ্ন...
তুই উল্টে পড়িস যদি...?


ডানা মেলতে কষ্ট হবে কি?... কুণ্ঠা হবে কি?

এত যুদ্ধে ক্লান্তি যদি ভারগ্রস্ত করে...

চেতনা রোমন্থন করে... নিয়ে আসতে পারবি তুই...

জীবনের গতিময়তাকে...?

নতুন করে চলতে শুরু করবি ?

চল তবে যাই ...


সীমাহীনতার বাস্তবতায়...

        আর
বাস্তবের সীমাহীনতায় ।












বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

বিন্দু


বিন্দু থেকে গল্প শুরু হয়
বিন্দু থেকেই পথের পত্তন 
গল্প ঘোরে ঘূর্ণির পথ ধরে
ঘুরপথে তার চরিত্রাবর্তন।
এরই মধ্যে উতরাই-চড়াই
এরই মধ্যে পরিবর্তন-গাথা
এরই মধ্যে সমুদ্র মন্থন
আর তার সাথে পর্বত লঙ্ঘন।
বিন্দু থেকে শুরু করে বিন্দু বিন্দু চলে বিন্দুর সাথে মিশব বলে এতটা পথ হাঁটা... এত কথা ভাবা...!


রবিবার, ২৫ মার্চ, ২০১২

ইন্দ্রিয়-পথ...


মেঘ জমেছে;
খবর পেলাম ব্জ্রনাদের হাত ধরে।
রাগ জমেছে;
দেখতে পেলাম রক্তস্বাদের ঘ্রাণ পেয়ে।
আলো আছে;
বুঝতে পেলাম অন্ধকারের কোল ঘেঁষে।

আর এসব খবর শুনতে, দেখতে ও বুঝতে গিয়ে...  হারিয়ে ফেললাম নিজেকে।

উল্লাসে।
আর্তনাদে।
আর
                               নিরুদ্দেশে!!!


বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১২

রোজনামচা


লাশ পড়েছিল আধবোজা পুকুরের পাড়ে...
কে মেরেছে? কি তার পরিচয়?
নাম তার ‘ন’-এর দলে... নাকি ‘স’-এর?

ঘর থেকে বেরিয়ে আজ সে বারবনিতা...
আলোচনা চলে...
টেনে নিয়েছিল কোন জাতের ছেলে?

ছোট্ট ছেলে...  জন্ম থেকে হাত পাততে শেখে...                                     
প্রশ্ন ওঠে...
ওর শ্রেণী-কে নিয়ে।

দুর্নীতির মামলা গ্রাম থেকে হেঁটে হেঁটে এখন সুপ্রিম কোর্টে বিশ্রামরত...
তর্ক চলে...
‘নীতির’ সংজ্ঞা নিয়ে...


এভাবেই একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে... ঘটনার ঘনঘটায় তারা হয়ে ওঠে জট-পাকানো তন্ত্রের মত। তুমি আর আমি বারান্দায় পা দুলিয়ে দুলিয়ে নতুন কেনা-কাটার হিসেব করতে করতে সূর্যডুবি দেখি...

সূর্যটা ডুবতে থাকে...
আলো পালিয়ে যায়...

আর আমাদের আদরের মেয়ে রোজকার মত খবর খুঁজতে থাকে। কাল খবরের কাগজে ঘটনা ছাপবে আরও।

আমরা আয়েস করে দেখব সূর্যোদয়...
সূর্য-ডুবির অপেক্ষায়... 

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

রাস্তায় নামতে গিয়ে...


যদি রাস্তায় নামতে বলিস নামতে পারি আমি
প্রশ্ন    ...    ‘তুই নামতে বলিস কেন?’
সেই প্রশ্নে প্রশ্ন করিস ‘আমায় শুধোস কেন?’
তখন আমার প্রশ্ন জাগে... ‘শুধোব না কেন?’...
এমন করেই চলতে থাকে হাজার-খানেক বছর
প্রশ্ন পিঠে প্রশ্ন চলে ... পাহাড় জমে ওঠে
পাহাড়-পারে তুই দাঁড়িয়ে ...
পাহাড়-পারে আমি...
রাস্তা গেছে কোনখানেতে জানিনা ‘তুই – আমি’ !!!


বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২

গল্প-ছবি


কুয়াশা আর চাঁদের আলো,
পা ছড়িয়ে বসে গল্প করছিল...
যদিও ওদের গল্পের একটি শব্দও আমায় ছুঁতে পারেনি,
তবু তোমার শব্দের পাহাড় পেরিয়ে ওদের আমি ছোঁয়ার চেষ্টা করছিলাম মাঝেমধ্যেই...
আবার ফিরে এসে তোমার অগোছালো শব্দগুলো দিয়ে নিজের মত করে ছবি আঁকছিলাম...
যে শব্দগুলো দিয়ে তুমি হয়ত অন্যরকম কোন একটা ছবি আঁকছিলে,
আর তাই হয়ত আমার ক্যানভাসে রংগুলো সব মিলেমিশে সাদা হয়ে
                                                                  হাঁটা দিচ্ছিল...
চলতে চলতে তারা ছুঁয়ে ফেলছিল চাঁদের আলো আর কুয়াশার গল্পকথার ওই ধোঁয়ায় ধোয়া রঙ... যে কথার শব্দগুলোকে আমি ছুঁতে পাইনি কিছুতেই!
ফিরতি পথে হয়ত তারা আনবে সেই সদ্য স্নাত রঙ... হয়ত সে রঙ চড়বে আমার ক্যানভাসে...
                                                                  আর তুমি তখন...
অন্য কোথাও অন্য শব্দ নিয়ে... আঁকছ ছবি অন্যমনে... তোমার ক্যানভাসে...


শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১২

কবিতা নয় ...


কয়েকটা লোক জুটতে পারো আমার সাথে?
কাজ রয়েছে পড়ে!
যদি আস... জোটার আগে ফর্দ পড়ে নিও।

ফর্দের কিছুটা তুলে দিলাম...
ইতিহাস কিংবা ঐতিহাসিক দুজনের একজনকে গায়েব করা...
তর্ক নামে বিষয়টিকে অভিধান থেকে ঘষে তুলে ফেলা...
চায়ের কাপগুলোকে ভেঙে ফেলা...
ওয়াইন-গ্লাস গুলোকে শো-কেস বন্দী করা...
‘আমি’-র অর্থ বদলে ‘তুমি’ করে দেওয়া...
‘হ’ –এর কান ধরে ‘ম’-এর ঘরে নিয়ে যাওয়া...

শুরুতে ভেবেছিলাম... একলা চলতে থাকি।
চলব তা ঠিক...
কেউ সাথে থাকলে জানাবেন।






বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১২

ভড়ং !


দুর্বোধ্য কবি হও... কবিতাকে বাঁধো ঘেরাটোপে!
বুঝতে পেলেই তুমি কাবু হবে কাব্যের কোপে...
ছবি যদি আঁক তবে ভরে দাও স্বপ্নের রঙ,
বাস্তব-ঘেরা মন করে যাক অং – বং – চং ।
গল্পে চলতে গেলে জীবনকে ভুলে যেতে হবে...
সব পথ ভুলে গেলে তবে তুমি ঠিক পথ পাবে!!!

রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১২

'আবার আসব'...


শেকড় থেকে আমি তোমায় উপড়ে নিতে চাই...
কাল তোমায় অপমান করেছি                আজ তাচ্ছিল্য...!
ভবিষ্যতের খাতায় আর কি তুলে রেখেছি... নিজেও জানিনা !
বহুদিন ধরে দূর থেকে দেখেছি তোমায় আমি
যেভাবে দেখিয়েছে সক্কলে...
                           ওরা থাকে জঙ্গলে
                           ওরা থাকে পাহাড়ে ...
ওদের নিয়ে ভাবনা নয়... ওদের সঙ্গে বন্ধুতা নয়... 
যাওয়া যেতে পারে কোন এক সময়-কাটানো ছুটির অজুহাতে
নাচ দেখতে তোমাদের...
                     আর দুহাত গালে ঠেকিয়ে আশ্চর্য প্রকাশে!!!
পড়া যেতে পারে বিদ্যাসাগরি ‘সভ্য ও অসভ্য’ ... চায়ের অবকাশে...

আর আজ হঠাৎ যখন তোমাদের মাঝে গিয়ে পড়লাম...
প্রতিটা চোখে দেখতে পেলাম... আমার কঙ্কাল!
প্রতিটা চোখে দেখতে পেলাম প্রেমের করতাল!!! 
    বলে এলাম...    ‘আবার আসব’...

(ওড়িশার আদিবাস থেকে ফিরে... !)


বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

পাঁক

ঘুরে ফিরে এক পথে চলা 
               নদীগুলো হেসে চলে
                 তোর চলা দেখে!!!
পাঁক !
শুরু নেই শেষ নেই
ঘুরপথে ঘোরা...!

To embrace my darks!

Do I mean something to you?                                       He asks. The words echo and knocks on the doors that I kept in the darkest...