Tuesday, April 24, 2018

উল্লাস


রক্তে একটা আঁশটে গন্ধ থাকে
নাক সিঁটকোন থকথকে রঙ সাথে।
তবু বারবার তার আশেপাশে ঘুরে
ঝাঁপিয়ে পড়ার স্বভাব যায় না সরে।
শুকোতে থাকা ঘায়ের নিউক্লিয়াসে

নখেরা আমার চিল্লায় উল্লাসে। 

Friday, March 30, 2018

শব্দঘোর

যুগান্তরের জাবরকাটা যাঁতাকলের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা কিছু শব্দেরা একজোট হয়ে কখনও একটা কবিতা আবার কখনও নাকি একটা গল্প হয়ে ওঠে।

অমুকদা কাউকে বলছেন ভাষার কারিগরি জমেছে বেশ।
তমুকদি বলে উঠলেন... না না তত্ত্বটাই সার... সেটা না থাকলে কি গভীরতা মেলে?
আর একজন তারই মধ্যে ধরে ফেললেন গান।

হাতে বাহারি গেলাস আর সারা বাড়ির হালকা হলুদ-একটু বেগুনি-আর সামান্য সবুজ আলো-আঁধারিতে বেশ মাতয়ারা পরিবেশ। আমি আছি এককোণে বসে। কি যেন শিখব বলে এসেছিলাম। কিছু একটা শিখলামও বটে। কারা সব কাকে যেন চুমু খেল... কার ঘরে কারা যেন শুয়েছিল... আর কে যেন কিনেছে ডিশওয়াসার। আছি তবু এককোণে বসে! তথ্য-প্রযুক্তির যুগে কোন্ তথ্যই বা ডাস্টবিনগামী? তাই হয়ত এককোণে বসে।

এক ঘরে চলছে রঙতুলি... ধোঁয়াচোখে বললে চামেলী।

আমি সেই এক কোণে বসে।

এ সব এর মাঝখানে হঠাৎ উঠে যেতে যেতে আমার হাঁ-চোখ দেখে তুমি বলে গেলে...

না বলা গল্প কিছু পড়ে নেই।
কবিতাও হয়ে গেছে পড়া।
তবু শব্দেরা ডানা মেলে দিলে 
মন্দ হয় না পথচলা।  

Sunday, March 25, 2018

সুযোগ


কবরের নিকষ কালোর হাত ধরে হাসান মিঞাঁ চলেছে আরও অন্ধকার এর দিকে।
চুল্লির ধূসর ধোঁয়ায় মনোহর গা ভাসিয়েছে শেষহীন নীল এ।
শিরিন এর শেষটুকু ডানা মেলেছে বুড়োশকুন এর কোষে -  মিলিয়ে যাবে সে মেটে রঙ-এ।

হাসান - মনোহর - শিরিন এর শেষকাজ সেরে ঘাটকোপর স্টেশন-এর টিকে থাকা বুড়োবটতলে বিড়ি টানতে টানতে এমনই সব নানা রঙ এর বিশ্বাস এর ভাষাহীন গল্পে মশগুল পড়ে থাকা জিন এর টুকরো রা।  

জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে আমরাও যেমন মেতে থাকি মুক্তির রঙ বোঝার বোঝা বওয়ায়...

তাবিজ-কবজ-মাদুলি বা ঈশ্বর এর থাকা না থাকার প্রশ্ন 
সেইসাথেই থাকে নতুন ফ্ল্যাট-এর রঙ এর চয়ন অথবা কাল কতটা মাটি কাটলে খাবার জুটবে - এ সব এর হিসেব। 

আর একটু সুন্দর জীবন, আরও একটু মুক্তির স্বাদ এর এলোপাথাড়ি গল্পের সুতো গুটিয়ে আসে এক প্রস্থ বিরাম কিংবা পরের ব্যস্ততার তাড়ায়। 

জীবন অপেক্ষায় থাকে। 
অপেক্ষায় থাকে মৃত্যু। 








Monday, March 19, 2018

অর্থহীন

আর কতটা থাকলে মাত্রাছাড়া থাকা হয়ে যাবে?
আর কতটা লিখলে লেখা হয়ে উঠবে অর্থহীন? 

এ প্রশ্নেরা খাচ্ছে মাথা দিন কে দিন।

যাওয়া না থাকলে থাকার কোন শেষ নেই! 
শেষ না থাকলে শুরুর নেই হদিশ।

অর্থ না হয় অনর্থের শেকড়ে... অনর্থ-হীন অর্থের কোন দেশ নেই।  

Thursday, March 8, 2018

বিশ্বাস

দম বন্ধ করা বিশ্বাস করব বলে হাতড়ে বেড়াচ্ছি।
হাতড়ে বেড়াচ্ছি অন্ধকারে ও আলোতে।


কোথাও একটা অপলক বিশ্বাস পড়ে থাকতে পারে ভেবে হেঁটে চলেছি, দৌড়চ্ছিও কখনও সখনও।


গাঢ় অন্ধকারেই হয়ত ভাল করে দেখা যায় বোধ। চোখ-ধাঁধানো আলোয় দেখা আর অদেখা একে অপরকে জাপটে ধরে তৈরি করে নানান রঙের ছবি। রঙে... না আলোয়... নাকি ছবির ভারে... কেমন যেন চাপা পড়ে যায় বোধ।


গায়ে লেপটে থাকা গোলকধাঁধার গা বেয়ে চলতে চলতে... কিছু একটাতে দম বন্ধ করা বিশ্বাস করব বলে হাতড়ে বেড়াচ্ছি। অন্ধকারে ও আলোতে। 

Friday, December 29, 2017

তিথির ফের


একটা সমুদ্র। একটা বলা চলে কি? মানে… সমুদ্র কি একটা বা অনেকগুলি হয়?

                    যাক্গে! সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে তিথি।


ওহো! সমুদ্রের ঠিক মাঝখানটা কোথায়?


                    ধুর্… যাক্গে! সমুদ্রের মাঝখানেই তিথি।


ও কি ভাবছে এখন? কিছু ভাবছে কি? নাকি সাঁতার কাটছে? সাঁতরাবার চেষ্টা মনে হচ্ছে! কোনদিকে এগোচ্ছে বুঝতে পারছি না এতদূর থেকে।


এগোচ্ছে কি? কম্পাস কি আছে ওর কাছে? কম্পাস কি থাকে?! কোনদিকে যাবার কথা ভাবতে পারে তিথি এখন? কোথাও কি পৌঁছতে হবে?


দম নিচ্ছে তিথি। অনেকবার! প্রায় প্রতি ৪ ল্যাপ এ একবার মতন! দম নিয়েই চলেছে।


বেশ ক্লান্ত লাগছে। তবু দম নিয়েই চলেছে! 


নাহ! আমি উঠি বরং। অনেক চেষ্টা করেও দেখতেই পাচ্ছি না কিছু। 


Friday, October 13, 2017

অন্ধকারের ছন্দে

ভালবাসতে গিয়ে যদি ফের দেখা হয় কাঠ-ঠোকরার সঙ্গে...?
ঠুকরে দিয়ে যায় পালিয়ে অন্য কারোর বন্ধ জামার গন্ধে ...?

তখন আমি করবটা কি একলা ঘরে একলাপনার ধন্দে!
তার চে বরং একলা থাকি ... একলা নাচি... অন্ধকারের ছন্দে...